পারমাণবিক বোমা | Atomic Bomb | বাংলা রচনা | প্রবন্ধ রচনা | মাধ্যমিক রচনা | মাধ্যমিক প্রবন্ধ রচনা | পারমাণবিক বোমা কী | পারমাণবিক বোমা আবিষ্কারের ইতিহাস | বিশ্বযুদ্ধে পারমাণবিক বোমার ব্যবহার | পারমাণবিক বোমা ও বিশ্বশান্তির অবনতি | পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রসমূহ | পারমাণবিক বোমার ব্যবহার প্রতিরোধ |

পারমাণবিক বোমা

ভূমিকা:আধুনিক বিশ্বসভ্যতারযুগে যাকিছু অভিশাপস্বরূপ আবির্ভূতহয়েছে তারমধ্যে পারমাণবিকবোমা অন্যতমপারমাণবিক বোমাআবিষ্কৃত হওয়ারপর থেকেইএটি বিশ্ববাসীরকাছে নিকৃষ্টতমবর্বরতার হাতিয়ারনামে বিবেচিতহয়ে আসছেএর ব্যবহারেগোটা মানবগোষ্ঠীদেখেছে সভ্যতারএক ভয়ানক বীভৎসরূপবর্তমানবিশ্বে পারমাণবিকঅস্ত্রের মালিকানাবিশ্বের বুকেশক্তিধরের পরিচয়বহন করেএরূপ অস্ত্র বোমারউপর অধিকারপ্রতিষ্ঠা করারমাধ্যমে নিজেকেমহাশক্তিধর হিসেবেপ্রতিষ্ঠিত করারঅভিপ্রায় প্রকাশকরে সবাইতবে সাম্প্রতিককালেবিশ্বব্যাপী পারমাণবিকবোমা অস্ত্রের নিরস্ত্রীকরণেরজোর প্রচেষ্টাচলছেকেননাএর অপব্যবহারমানুষের জীবনকেদাঁড় করিয়েছেমারাত্মক হুমকিরমুখে

পারমাণবিক বোমা | Atomic Bomb

পারমাণবিকবোমা কী: পারমাণবিক বোমাহচ্ছে বর্তমানবিশ্বের সবচেয়েশক্তিশালী ধ্বংসাত্মক অস্ত্রপরমাণুর কেন্দ্রবিভাজিত হওয়ারসময় উদ্ভুতশক্তির সাহায্যেপ্রবলভাবে বিস্ফোরিতবোমাকে পারমাণবিকবোমা হিসেবেসংজ্ঞায়িত করাযায়একেনিউক্লিয়ার বোমাওবলা হয়েথাকে

পারমাণবিকবোমা আবিষ্কারেরইতিহাস: নৃশংসবর্বরতার প্রতীকপারমাণবিক বোমাআবিষ্কারের রয়েছেএকটি সুদীর্ঘইতিহাসএইইতিহাসের সাথেজড়িয়ে আছেবেশ কিছুবিখ্যাত বিজ্ঞানী গবেষকেরনামপরীক্ষা-নিরীক্ষারমাধ্যমে পারমাণবিকবোমা আবিষ্কারেরপ্রচেষ্টা শুরুহয় ১৯১৯সালে প্রখ্যাতবিজ্ঞানী রাদারফোর্ডেরহাত ধরেপরবর্তীতে কলম্বিয়াবিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজনঅধ্যাপক এইপ্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিতকরেন নিজনিজ গবেষণাকর্মের মাধ্যমেজর্জ বি. প্রোগ্রাম, কন্যান্ট, ব্রিগম, লরেন্স, মারফ্রি প্রমুখবিজ্ঞানীরা কার্যক্রমকে এগিয়েনিয়ে যান১৯৪৩ সালেবিজ্ঞানী ওপেনহেইমারএই প্রচেষ্টাকেচূড়ান্ত পর্যায়েনিয়ে যানতার ধারাবাহিকতায়১৯৪৫ সালেরপ্রথম দিকেপ্রথম পারমাণবিকবোমা আবিষ্কৃতহয়এইকাজের স্বীকৃতিস্বরূপওপেনহেইমারকে বলাহয় পারমাণবিকবোমার আবিষ্কারকআবিষ্কারের কিছুদিনপরেই বিশ্ববাসীদেখতে পেয়েছে বোমারভয়াবহ মর্মান্তিক ব্যবহার

বিশ্বযুদ্ধেপারমাণবিক বোমারব্যবহার: পারমাণবিকবোমার ব্যবহারকতটা নিষ্ঠুর ভয়ংকরহতে পারেতা প্রথমপ্রমাণিত হয়১৯৪৫ সালে২য় বিশ্বযুদ্ধেরশেষের দিকেযুদ্ধের অস্ত্রহিসেবে বোমা ব্যবহারেরপরিণতি ছিলখুবই ভয়াবহ হৃদয়বিদারক১৯৩৯সালে শুরুহয়ে ২য়বিশ্বযুদ্ধের ব্যপ্তিছিল ১৯৪৫সাল পর্যন্তসেই যুদ্ধেজার্মান-জাপান-ইতালিছিল ফ্যাসিবাদীঅক্ষশক্তিপারমাণবিকবোমার আবিষ্কারকওপেন হেইমারেরপরিকল্পনা ছিলতৎকালীন নাৎসিবাহিনীর প্রধানহিটলারের বর্বরতা অত্যাচারথেকে জার্মানতথা মানবজাতিকেমুক্ত করারজন্য বোমা ব্যবহারকরা হবেকিন্তু মার্কিনযুক্তরাষ্ট্র সেসময় জাপানকেইসবচেয়ে বড়শত্রু মনেকরেছিলযারফলে চূড়ান্তআক্রমণের জন্যতৎকালীন মার্কিনপ্রেসিডেন্ট হেনরিট্রূম্যান জাপানকেইচিহ্নিত করেনঅবশেষে ১৯৪৫সালের আগষ্ট বোমারুবিমানের মাধ্যমেমার্কিন বাহিনীজাপানের হিরোশিমাশহরে একটি২০,০০০টন টি.এন.টিশক্তিসম্পন্ন পারমাণবিকবোমার বিস্ফোরণঘটায়এরফলে শহরেরবিশাল অঞ্চলসম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্তহয়ে যায়প্রায় পুরোশহরজুড়ে তৈরিহয় ধ্বংসেরমহাস্তুপবোমারবিস্ফোরণে মারাযায় প্রায়৬৬ হাজারমানুষ এবংআহত হয়আরো ৬৯হাজারঅথচ শহরেরঅধিবাসী ছিলপ্রায় ,৪৩,০০০জনহিরোশিমাধ্বংসযজ্ঞের রেশকাটতে নাকাটতেই একইমাসের তারিখ আবারোপারমাণবিক বোমাবিক্ষেপ করাহয় জাপানেরনাগাসাকি শহরেএতে মারাযায় প্রায়৩৯ হাজারলোক এবংআহত হয়আরো ২৫হাজারপারমাণবিকবোমার আঘাতেনিশ্চিহ্ন হয়েযায় প্রায়৬০ হাজারঘর বাড়ি১৯৪৫ সালেরপর বোমারব্যবহার তেমনপ্রসারিত নাহলেও বিশ্বেরশক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোরমধ্যে পারমাণবিকবোমা অস্ত্র ব্যবহারকরার প্রবণতাএখনো দেখাযায়

পারমাণবিক বোমা | Atomic Bomb

পারমাণবিকবোমা বিশ্বশান্তির অবনতি:বিশ্বশান্তির ধারায়প্রবলভাবে আঘাতকরেছে পারমাণবিকবোমা বিস্ফোরণেরঘটনাকিন্তুবিশ্ব নেতারাএই ভয়াবহধ্বংসলীলা চরম অমানবিকআচরণের পরিণামথেকে তেমনকোনো শিক্ষাগ্রহণকরেছে বলেমনে হয়নাযারফলে বিশ্বেনতুন করেশান্তি প্রতিষ্ঠিতহয়নি বরংদেশে-দেশেঅরাজকতা শত্রুতা বৃদ্ধিপেয়েছে বহুগুণেযুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন প্রভৃতিক্ষমতাধর রাষ্ট্রপারমাণবিক বোমাতৈরি ব্যবহার করারএক নোংরাখেলায় মেতেউঠেছেযারফলস্বরূপ বিশ্বশান্তিপ্রতিনিয়ত চরমঅবনতির দিকেধাবিত হচ্ছে

পারমাণবিকশক্তিধর রাষ্ট্রসমূহ:বর্তমান বিশ্বেরক্ষমতাধর দেশগুলোরমধ্যে শক্তিরএকটি মাপকাঠিহিসাবে পারমাণবিকবোমা অস্ত্র থাকা-না থাকাকেধরা হয়এর ভিত্তিশীর্ষ পাঁচটিক্ষমতাশালী দেশকেপারমাণবিক শক্তিসমৃদ্ধ দেশবলা হয়েথাকেদেশগুলোহচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স চীনআন্তর্জাতিকরাজনীতিতে এরানিউক্লিয়ার ক্লাবনামে পরিচিতএই পাঁচটিদেশের বাইরেওভারত, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া ইসরাইলেরকাছে পারমাণবিকঅস্ত্র আছেমনে করাহয়

পারমাণবিকবোমার ব্যবহারপ্রতিরোধ: আধুনিকসভ্যতাকে পারমাণবিকবোমা অস্ত্রের বিষাক্তপ্রকোপ থেকেরক্ষা করারজন্য যুক্তরাষ্ট্রসর্বপ্রথম উদ্যোগনেয় ১৯৬৮সালে১৯৭০সালে প্রথমএকটি চুক্তিস্বাক্ষরিত হয়প্রাথমিকভাবে সেইনিরস্ত্রীকরণ চুক্তিতেস্বাক্ষর করেছিলমাত্র ৩টিদেশপরে১৯৯৫ সালে সংখ্যাবেড়ে ১৭৩- দাঁড়ায়বিশ্ববাসীর ব্যাপারে সচেতনতারসূত্র ধরেপ্রতিষ্ঠা লাভকরে আন্তর্জাতিকরাসায়নিক অস্ত্রনিষিদ্ধকরণ সংস্থা(OPCW)। পারমাণবিক অস্ত্রেরব্যবহার কমানোএবং ক্রমান্বয়েবন্ধ করারজন্য গৃহীতপদক্ষেপগুলোর মধ্যেসবচেয়ে উল্লেখযোগ্যহচ্ছে সিটিবিটি(CTBT)। যার পূর্ণনামহচ্ছে 'Comprehensive Nuclear Test Ban Treaty'। এটির উদ্দেশ্যছিল নতুনকরে কেউপারমাণবিক অস্ত্রতৈরি এবংব্যবহার করতেচাইলে তাতেবাধা দেওয়া কথাপরিষ্কার যে, পারমাণবিক বোমারভয়াবহতা থেকেবিশ্ববাসীকে রেহাইদিতে হলেদরকার মূলতঅস্ত্র সমৃদ্ধদেশগুলোর আন্তর্জাতিকসদিচ্ছানিজনিজ অস্ত্রনিষ্ক্রিয় করতেহবে সবারআগেঅন্যথায়চুক্তিপত্রের কার্যকারিতাকখনো সফলতারমুখ দেখবেনা

উপসংহার:পারমাণবিক শক্তিরআবিষ্কার নিঃসন্দেহেমানব সভ্যতারঅন্যতম একটিকৃতিত্বএইশক্তিকে কাজেলাগিয়ে মানুষেরকল্যাণ সাধনকরা যায়অথচ এটাব্যবহৃত হচ্ছেমানবজাতিকে ধ্বংসকরার কাজেপারমাণবিক বোমা শক্তিনিয়ে প্রত্যক্ষ পরোক্ষযুদ্ধ পুরোপুরিনিরসন নাকরে বিশ্বেশান্তি স্থাপনকরা সম্ভবনয়মানবসভ্যতার হুমকিএই পারমাণবিকঅস্ত্র ধ্বংসকরার মাধ্যমেবিশ্ববাসীকে মৈত্রীরবন্ধনে আবদ্ধকরতে বিশ্বনেতাদেরপদক্ষেপ অপরিহার্যএক্ষেত্রে সবারআগে পারমানবিকঅস্ত্র-সমৃদ্ধদেশগুলোর এগিয়েআসা উচিৎ

Comments

Popular posts from this blog

Gove confirms mandatory housebuilding targets for councils will be abolished in face of Tory rebellion – UK politics live

Kotak Mahindra Bank Recruitment 2022 Released for Graduate Candidates And Apply Online